
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির সময় ২২০০ লিটার তেলসহ একটি ট্যাংক লরি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তেলের ক্রেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে তেল মজুদ ও বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফুলবাড়ীয়ার উসমান আলী, লরির চালক সিরাজগঞ্জ জেলার সোহেল রানা (৪০) এবং তার সহকারী হৃদয় আহমেদ (২৩)। তাদের প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ হাটখালি বাজার এলাকায় লরি থেকে জ্বালানি বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ২২০০ লিটার জ্বালানিসহ ট্যাংক লরিটি জব্দ করা হয় এবং তিনজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক ও সহকারী জানান, তারা সিরাজগঞ্জ থেকে জ্বালানি তেল মুক্তাগাছার একটি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসেন। তবে নির্ধারিত স্থানে সরবরাহ না করে তারা ফুলবাড়ীয়ার হাটখালি বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন।
পুলিশের হাতে পাওয়া একটি স্লিপে ওই ফিলিং স্টেশনের নাম উল্লেখ থাকলেও কোনো সুনির্দিষ্ট ঠিকানা পাওয়া যায়নি, যা পুরো ঘটনার রহস্য আরও গভীর করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি বিক্রির আড়ালে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিভিন্ন পাম্পের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাতের আঁধারে অধিক দামে তেল বিক্রি করে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত সোহেল মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার বৈধ অনুমোদন (এনওসি) রয়েছে এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি বিক্রির অনুমতি আছে। বর্তমান সংকটের কারণে তার ব্যবসা বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় জড়িত পলাতকদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ তেল সিন্ডিকেটের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অবৈধ জ্বালানি বাণিজ্য শুধু বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে না, বরং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।