
ময়মনসিংহ: সব মানুষের জীবনেই কিছু মানুষ থাকেন, যাদের উপস্থিতি শুধু দায়িত্ব পালনে নয়, মানবিক স্পর্শেও অনুভূত হয়। চিকিৎসকের সাদা অ্যাপ্রোন যখন মমতা, দায়িত্ববোধ আর ভালোবাসার প্রতীক হয়ে ওঠে, তখন সেই চিকিৎসক মানুষের হৃদয়ে আলাদা স্থান করে নেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নাহিদ সুলতানা কমলা তেমনই একজন চিকিৎসক।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের কৃতী সন্তান সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নাহিদ সুলতানা কমলা নিজের কর্মনিষ্ঠা, পেশাগত দক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে রোগীদের আস্থা অর্জন করেছেন। সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েও তিনি বিকেলে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া সায়েম ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেন।প্রতি শুক্রবার তার নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম বাশদী ডাক্তার বাড়িতে সকাল থেকে বিকেল পযন্ত রোগী দেখেন।
প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর চাপের মধ্যেও তাঁর মুখে থাকে হাসি, কথায় থাকে আন্তরিকতা। রোগীদের অভিযোগ শোনেন ধৈর্যের সঙ্গে, রোগ সম্পর্কে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা দেন এবং চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীরা পান মানসিক সাহস ও স্বস্তি।
সহকর্মীদের মতে, চিকিৎসাকে তিনি কখনোই শুধুমাত্র একটি পেশা হিসেবে দেখেন না; বরং মানবসেবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। রোগীর আর্থিক সামর্থ্য নয়, চিকিৎসার প্রয়োজনই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সোমা আক্তার বলেন, ডাঃ নাহিদ সুলতানা কমলা অত্যন্ত আন্তরিক একজন চিকিৎসক। তিনি রোগীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতো আচরণ করেন। তাঁর ব্যবহারই রোগীদের সাহস জোগায়।
এক রোগীর স্বজন এস. তরফদার বলেন, তিনি একজন সহানুভূতিশীল চিকিৎসক। তাঁর নম্রতা ও আন্তরিক ব্যবহার রোগীদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার মানসিক শক্তি জোগায়।
মমেক হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নাহিদ সুলতানা কমলা বলেন, রোগীর সেবাই আমার প্রথম দায়িত্ব। সরকারি দায়িত্ব পালনের পর সময় পেলেই সায়েম ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে চেম্বারে বসি। সেখানে অসচ্ছল ও হতদরিদ্র রোগীদের স্বল্প মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।
মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও চিকিৎসাসেবার অনন্য সমন্বয়ে ডাঃ নাহিদ সুলতানা কমলা আজ অনেকের কাছে শুধু একজন চিকিৎসক নন, বরং আস্থার আরেক নাম।ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার মাটি থেকে উঠে আসা এই কৃতী সন্তান তাঁর কর্মের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করছেন নিজ এলাকা ও দেশের নাম।