
মোবারক হোসাইন : ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হলেও দলীয় নির্দেশনায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর)
বিকেলে শহরের চত্বরে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক। শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের অংশ গ্রহণ করে। এসময় সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যে আশা নিয়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছিলেন, সে লক্ষ্যে বিএনপি সকল প্রকার বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে পৌঁছে যাবেই যাবে।
এদিকে ভালুকজানের জামিয়া আরাবিয়া মাদরাসা মাঠে থেকে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের অংশ গ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল করিম সরকার। এর আগে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া মোহাম্মদ আব্দুল করিম সরকার বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় কোন উন্নয়ন সাধন করেনি। তাই এই আসনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য মানুষ আগামী নির্বাচনে তাকে ভোটের মাধ্যমে সংসদে পাঠাতে আগ্রহী হয়ে আছে।
অপরদিকে শহরের পরিষদ প্রাঙ্গন ফুল্লরা চত্বরে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের অংশ গ্রহণে আরেকটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন। এসময় সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফুলবাড়ীয়া আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সারা উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে একই স্থান থেকে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে আরেকটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়ে বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর নেতৃত্ব দেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ। এসময় এক প্রতিক্রিয়ায় কামরুজ্জামান মীর আজাদ বলেন, ফুলবাড়ীয়া আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত শামসুদ্দিন আহমেদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আগামী দিনের ফুলবাড়ীয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়ে কাজ করে যাবেন।
প্রায় একই সময়ে শহরের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল শুরু করে বাজার প্রদক্ষিণের নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ জেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহ সভাপতি, উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। এসময় প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ভোট চোরির মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিল এবং বিএনপির উপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার করবে।
আরেকদিকে শহরের কে আই সিনিয়র কামিল মাদ্রাসা মাঠ থেকে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে মিছিল শুরু হয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসা বোর্ডের সদস্য ও রেডিওলজি বিভাগের প্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং বিএনপি নেতা ডাঃ সাইফুল ইসলাম বাদল। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ডাঃ সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, ফুলবাড়ীয়াবাসীর জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। সুযোগ পেলে মানুষের জন্য কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যখাত সহ অন্যান্য বিষয় সৃষ্টি করা হবে।
এছাড়াও দলটির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপনে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করেছে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ হেল মোস্তাক। পরিষদ প্রাঙ্গন ফুল্লরা চত্বর থেকে র্যালিটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
তাছাড়াও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রার্থী শাহীনূর মল্লিক জীবনের নেতৃত্ব বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের একটি মিছিল আখতারুল আলম ফারুকের সমর্থনে তার মূল মিছিলে যোগদান করে।
উল্লেখ্য, বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপনে ফুলবাড়ীয়ায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নেমেছিলো। দুপুরের পর থেকেই ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে মিছিল, শোভাযাত্রা ও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথক কর্মসূচিতে যোগ দেন তারা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পথ পেরিয়ে বিএনপি এখনো জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে তারা নতুন উদ্দীপনায় সক্রিয় হওয়ার কথা জানিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই উৎসবমুখর পরিবেশে নানা বয়সী সমর্থকরা দলীয় পতাকা ও ব্যানার এবং তাদের সমর্থিত নেতাদের ছবি প্রদর্শন করেন।