
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এক প্রিয় মুখ, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন স্যার। সততা, নৈতিকতা ও ত্যাগের প্রতীক এই জননেতা দীর্ঘ চার দশক ধরে রাজনীতি ও সমাজসেবার সঙ্গে জড়িত থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষাজীবনে মেধার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: ১৯৬০ সালের ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৬নং ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চৌদার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। তাঁর পিতা মরহুম আকবর আলী মুন্সি এবং মাতা মরহুমা জহিরুন নেছা।
১৯৭৬ সালে ফুলবাড়ীয়া হাই স্কুল থেকে বাণিজ্য বিভাগে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ৮ম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবনেই তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরে যুক্ত হয়ে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতা ও পেশাজীবন: শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ময়মনসিংহ আকুয়া ইসলামী একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজ ও বকশিগঞ্জ সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। কিন্তু সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি চাকরি ত্যাগ করে নিজ এলাকার ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন।
আওয়ামী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। হাইকোর্ট থেকে রায় পেলেও এখনো তিনি অবসরকালীন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সমাজসেবায় অনন্য ভূমিকা: অধ্যাপক জসিম উদ্দিন স্যার শুধু রাজনীতিবিদ নন, একজন সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত।
তিনি —
এছাড়া তিনি বহু মসজিদ, মাদরাসা, মক্তব ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
রাজনীতিতে ত্যাগ ও নেতৃত্বের প্রতীক: ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ শহর শাখায় যোগদানের পর থেকেই তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
তিনি ক্রমান্বয়ে —
বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ আঞ্চলিক টিমের সহকারী পরিচালক ও জেলা ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: অধ্যাপক জসিম উদ্দিন স্যার ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২টিতে জয়ী হন, তবে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ব্যাপক ভোট পান এবং জামায়াতের শীর্ষ প্রার্থীদের একজন হিসেবে পরিচিতি পান।
২০০১ সালে ৪-দলীয় জোট থেকেও প্রার্থী করা হয় তাঁকে, কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থীর হটকারিতার কারণে জয় থেকে বঞ্চিত হন।
মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত একজন নেতা: সততা, ত্যাগ ও নৈতিকতার জন্য অধ্যাপক জসিম উদ্দিন স্যার সর্বস্তরের মানুষের কাছে একজন বিশ্বাসযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে দুঃখ-কষ্ট ও ক্ষতির মুখোমুখি হয়েও নীতির পথে অটল থাকা এক বিরল উদাহরণ তিনি।
দোয়া কামনা: ফুলবাড়ীয়া উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা—“মহান আল্লাহ তায়ালা যেন অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন স্যারকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী করে জনগণের সেবার সুযোগ প্রদান করেন— আমিন।
প্রচারে: ফুলবাড়ীয়া ঐক্যবদ্ধ জনতা।