জুলাই আগষ্ট আন্দোলনের ১০ নাম্বার আসামী ছিলেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসমত আলী মন্ডল। বর্তমানে স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। তবে সে স্মৃতি এখনো রাতের ঘুম কেড়ে নেয় হাসমত আলী মন্ডলের। তিনি স্মৃতি চারনে পুলিশের অত্যাচারের কথা মনে করেন।
স্মৃতি চারণে তিনি বলেন, দিনটি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আমার বাসায় দিনে একবার খেতে যেতাম আমার আম্মা বলত একেক দিন একেক সময় খেতে আসবি। দিনে একবার ভাত খেতাম মাঝে মাঝে বাড়িতে যাওয়া হত না। সব সময় পলাতক অবস্থায় থাকতে হত। এক দিন রাতে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারলাম, আমি যে বাসায় থাকতাম সেই খানে পুলিশ রেইডদিবে ঐ রাস্তায় পুলিশের গাড়ী ডুকেছে আমি তাড়াতাড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে পুকুর পারে দিকি চলে যাই। ঐ দিন পরে শোনতে পারি ঐ রোডে মোটরসাইকেল অভিযান চলছে।
পরের রাতে আমার বাসা পুরটাই রেড দিয়েছে রাত আনুমানিক ২.৩০ আমার পাশের বাড়ি থেকে আমার কালাম চাচা (কচু কালাম) রাস্তা বের হইছে পস্রাব করার জন্য তাকে পুলিশ দেখতে পেয়ে জিগ্যাসা করে হাসমত কে চিনেন? সে বলে হে আমার ভাতিজা সে এখানে থাকে না ঐ দিকে তাদের ফিসারির ঐখানে আরেক টা বাড়ি আছে সেখানে থাকে। পরে চাচাকে পুলিশের গাড়িতে জোরপূর্বক উঠিয়ে বলে কোন দিক নিয়ে যায়? চাচা বলে এত রাতে অনেক দূরে আমি নিয়ে যেতে পারব না তাকে কিছুক্ষণ আটকিয়ে রেখে পাছায় লাঠি দিয়ে কয়েক টা আগাত করে এবং বলে বাইঞ্চুদ তোর ভাতিজা আর তুই ফিসারি চিনস না? এই বলে একটা লাথি মেরে বলে দৌড়া শালা। পরে আমার চাচা কোন রকম প্রানে বেচে যায় পরের দিন আমার সাথে দেখা হয় তখন আমাকে বলে বাবা তুই বাড়িতে আসিস না ধরতে পারলে মেরে ফেলবে।
হাসমত আলী মন্ডল তার স্মৃতি চারণে আরো বলেন, আরেক রাতে পুলিশ অভিযানে বের হয়েছে তখন আনুমানিক রাত ২.৩০/৩ টা বাজে আমার বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি দেখে গেছেন রড সিমেন্টের ব্যবসায়ী আবুল কালাম (সানির বাপ)। বাড়িতে ডুকতেই কিছুক্ষণ পরে তাকে ফুলবাড়ীয়ার থানার ওসি রাশেদুজ্জামান তাকে ফোর্স নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে এবং গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। আমাদের এলাকার চানু লালুর ইটের বাটার ঐখানে বট গাছ তলে মসজিদে নিয়ে বসায় এবং ওসি রাশেদ বলেন মসজিদে নিয়ে আসলাম কেন জানেন? যাতে আপনি কোন মিথ্যা কথা না বলেন। এখন বলেন তো আনোয়ারের (পৌর যুবদলের সভাপতি) বাড়ি কোথায়? সে বলে আমি চিনিনা। পল্লী বিদ্যুৎতের ওদিকে যানতাম। হাসমত (পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক) কে চিনেন?
সে বলে আপনার ঐখান থেকেই আসলেন পুলিশ বলে ঐ বাসায় থাকে না এইদিকে ফিসারিতে থাকে সে বলে আমি ঠিকমতো চিনি না। আবুল কালাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে থেকেছি আমি বিদেশে থেকে এসে রড সিমেন্টের দোকান দিয়েছি। সকালে উঠে আমি দোকানে বসি আর রাত ১২/১ টা পর্যন্ত দোকান করি। বাড়ি থেকে আমাকে তুলে এনেছেন ভালো কথা। তবে আমি কিছুই জানি না। ততক্ষণে কালাম মামার মা বাবা তার স্ত্রী পৌর সভার ৮নং ওয়ার্ড কমিশনারের বাড়িতে গিয়ে কান্না কাটি লাগিয়ে দিয়েছে। সে খবর নিয়ে দেখে থানায় নিছে না। তখন তাড়া আরো বেশী চিন্তিত হয়ে গেছে কান্না কাটি করছে ফজর আযানের কিছুক্ষণ আগে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ তার পর বাড়িতে এসে সকল ঘটনা বলেন। ঘটনাটি সে তার পরিবারের কাছে এবং আমাকে ৫ তারিখের পরে জানিয়েছেন।
স্মৃতি চারণে হাসমত আলী মন্ডল জানান, আগস্টের আরেক রাতে বিশেষ ইনফরমেশন এ আমার বাড়িতে সারারাত গেরাও করে রাখে পুলিশ। আমার গেইটের সাথেই রাস্তা রাস্তা দিয়ে শাহিন নামে একজন যাচ্ছিলেন। আনুমানিক রাত ৪ টা বাজে তখন। আমার গেইটের সামনে যে পুলিশ অপেক্ষা করছিল তারা তাকে আটক করে এবং বলে এত রাতে কোথায় যাস? সে বলে আমি আলম এশিয়ার কাউন্টার এ চাকরি করি। পুলিশ বলে না তুই এখান থেকে গিয়ে হাসমত কে বলে দিবি আমরা তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য অপেক্ষমাণ আছি। সে বলে না স্যার, আমি গরীব মানুষ আলম এশিয়া গাড়িতে কাজ করে জীবন চালাই। আমরা রাজনীতি করি না এই সব নিয়ে কারও কাছে কোন কথা বলব না। পুলিশ বলে তুই কার আন্ডারে কাজ করস ফোন দে। তার সাথে কথা বলি তারপর সে ফোন দিয়ে কথা বলায় এবং কাউন্টার এর মেনেজার বলে আমাদের স্টাফ। আওয়ামীলীগের সভাপতি ইমদাদুল হক সেলিম এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। ও আমাদের এই খানে কাজ করে কোথাও কোন কিছু বলবে না।
হাসমত আলী মন্ডল জানান, আগষ্টের এক সন্ধায় পুলিশ আমাকে ধরতে এসেছে আমাকে না পেয়ে আমার নামে এক খলিফা কে দরে নিয়ে যায়। খলিফাকে থানায় জিগ্যেস করে আপনার নাম কি হাসমত? সে বলে হুম তবে আমি ঐ হাসমত না যাকে খুঁজছেন। ওসি রাশেদিজ্জামান বলেন, আপনি কোনটা ওর বাবার নাম আব্দুল খালেক আর আমার বাবার নাম মৃত আকবর আলী বেপারী। ওসি বলেন, তোর বাবার নাম মিলিয়ে দিচ্ছি তাকে আরও বলেন, আপনি কি বিএনপি করেন? সে বলে না আপনার যে প্রোগ্রামের ছবি আছে। সে বলে যখন যে বলে তখন সেটাতেই যাই। ঢাকা প্রোগ্রামে গেছেন কেন? এমনেই টাকা দিছিলো না গাড়ি দিয়ে নিয়ে গেছি নিয়ে এসেছি। তাহলে তো হলোই। পরে তাকে আর ছাড়া হলোনা। জেল হাজতে পাঠিয়ে দিল। ৫ তারিখের পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছে প্রতিটা দিন বিবস্ত্র অবস্থায় কেটেছে উনার।
মোঃ হাসমত আলী মন্ডল
আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ফুলবাড়ীয়া পৌর শাখা, ময়মনসিংহ।
প্রকৌশলী মোঃ সাবিউদ্দিন
১০৫, সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর-১০, ঢাকা- ১২১৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।