স্টাফ রিপোর্টার(ময়মনসিংহ): এই ভরা বর্ষায় রূপের সবটা মেলে ধরেছে টাঙ্গুয়ার হাওর। আকাশের মতো নীল, আয়নার মতো স্বচ্ছ পানিতে টইটম্বুর এখন এই জলাভূমি। দূরে মেঘালয় পাহাড়, ঝরনা থেকে নেমে আসা পানি, অগণিত পাখির কলতান আর হিজল-করচ বনের অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা মিলছে এই বর্ষা মৌসুমেই।
মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি ও দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইটও।
টাঙ্গুয়ার হাওরের রূপের বিবরণ লিখে শেষ করার মতো নয়। বর্ষা ও শীতকালে দুই রকমের সৌন্দর্যে অপরূপ হয়ে ওঠে এই হাওর।
পর্যটকদের মতে, এই হাওর তার আসল সৌন্দর্যে সাজে বর্ষাকালে। এ সময়ে পানিতে থইথই করে চারদিক। চাইলে নৌকা থেকে নেমে লাইফ জ্যাকেট পরে সাবধানতার সঙ্গে ভেসে বেড়ানো যায় পানিতে, আর উপভোগ করা যায় আশপাশের সবুজের মহিমা। কিছু কিছু জায়গায় এই হাওরের পানি এতটাই স্বচ্ছ যে, নিচের জলজ উদ্ভিদ কিংবা মাছ দেখা যায় খালি চোখেই।
হাওরের সৌন্দর্য সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করার জন্য ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রয়েছে নানা সুবিধা।
সুনামগঞ্জ থেকে সরাসরি হাওরটিতে যাওয়ার ব্যবস্থা, প্রশস্ত নৌকায় থাকা এবং নৌকার মাঝেই স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক বাথরুমের ব্যবস্থা রয়েছে। হাওরটির অন্যতম আকর্ষণ হলো নৌকায় থাকা। বৃষ্টির সময়ে নৌকায় বসে চা খাওয়া, আড্ডা দেওয়া-এ যেন অন্য এক পৃথিবী।
এই হাওরকে বলা হয় দেশি মাছের আধার বা 'মাদার ফিশারিজণ' তাই প্রায় প্রতি বেলাতেই খাবারের মেনুতে থাকে নানা রকমের মাছের আয়োজন। আর যারা হাঁস ও দেশি মুরগির মাংস খেতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এ দুই ব্যবস্থাই থাকছে। নৌকার ছাদে বসে আশপাশের সৌন্দর্য পর্যবেক্ষণের সঙ্গে খাবারের আয়োজন, যা খাবারের স্বাদকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।
এক সময় মনে করা হতো এই হাওরে হয়তো শুধু বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেই ঘুরতে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে থাকার জন্য আধুনিক ও আরামদায়ক নৌকা (হাউসবোট) প্রচলিত হওয়ায় এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও অনায়াসে এই হাওর ঘুরে আসা সম্ভব। এ ছাড়া স্বল্প বাজেটে হাওর ভ্রমণের জন্য রয়েছে ছোট-বড় কাঠ ও স্টিলের নৌকা।
কেউ চাইলে পুরো একটি নৌকা ভাড়া করে নিতে পারবেন কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করেও ট্যুরে যেতে পারবেন। টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য দুই শতাধিক আধুনিক ও আরামদায়ক হাউসবোট রয়েছে।
এর মধ্যে হাউসবোট মালিক সমিতিতে প্রায় একশটি রেজিষ্টার হাউসবোট রয়েছে। এ বছর আরও ৭০টির মতো হাউসবোট নতুন তৈরি করা হয়েছে।
যোগাযোগের উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য মানসম্মত আবাসিক হোটেল ও স্বাস্থ্যসম্মত রেস্তোরাঁ গড়ে তুললে টাঙ্গুয়ার হাওর সহ তাহিরপুর উপজেলা হতে পারে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটনকেন্দ্র।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা পারভিন বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ তাহিরপুরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে আগত পর্যটকদের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসন সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হতে হয়, সে দিকে আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। এ ছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় হাওরে আনসার সদস্যরাও রয়েছেন।
হাউসবোটে ভ্রমণ করতে চাইল সুনামগঞ্জ বা তাহিরপুর আসতে হবে। এরপর ভ্রমণের সব দায়িত্ব হাউসবোটের। হাউসবোট সুনামগঞ্জ শহরের সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে ছাড়বে, নাকি তাহিরপুর থেকে ছাড়বে তা আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। সুনামগঞ্জের ঘাট থেকে হাউস বোটে উঠলে টাঙ্গুয়া যেতে দুই ঘণ্টার বেশি জার্নি করতে হবে।
প্রকৌশলী মোঃ সাবিউদ্দিন
১০৫, সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর-১০, ঢাকা- ১২১৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।